কোমর ও পিঠের ব্যথা দূর করার সহজ উপায় । কোমর - পিঠ ব্যথায় করণীয় কি ?

কোমর ও পিঠের ব্যথায় আপনি ঘুমাতে পারেন না? ব্যথার কারণে ছটফট করেন। ওষুধেও তেমন কাজ হচ্ছে না। ব্যথা বারবার ফিরে ফিরে আসে। কি উপায়ে ব্যথা কমবে বুঝতে পারছেন না। আজকে আলোচনা করবো এই কোমর আর পিঠের ব্যথা কমানোর কিছু উপায় যা বেশ কার্যকরী। জেনে নিন ব্যাক পেইন কমানোর কিছু সহজ উপায়

কোমর ও পিঠের ব্যথা দূর করার সহজ উপায় । কোমর - পিঠ ব্যথায় করণীয় কি ?
পিঠ ও কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

কোমর ও পিঠের ব্যথায় আপনি ঘুমাতে পারেন না? ব্যথার কারণে ছটফট করেন। ওষুধেও তেমন কাজ হচ্ছে না। ব্যথা বারবার ফিরে ফিরে আসে। কি উপায়ে ব্যথা কমবে বুঝতে পারছেন না। আজকালকার দিনে কোমর ও পিঠের যন্ত্রণা স্বাভাবিক সমস্যা বলেই ধরা হয়। কারণ NIH তথা National Institute of Health এর জরিপ অনুসারে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কোমর ও পিঠের ব্যথায় ভুগছেন। এরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। দিনের কোনো না কোনো সময় এই ব্যথা তাদের প্রচন্ড কষ্ট দেয়। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এছাড়া কোনোরকম ভারী কাজ তারা করতে পারেন না। অনেক সময় চলাচলেও অসুবিধা হয়। এই ব্যাক পেইন হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে।
 
এই ব্যাক পেইন ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।এই ব্যথার কারণে অনেক কাজই তারা করতে পারেন না। আবার অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের ধকলও সইতে পারেন না। কোনো কোনো সময় ব্যথার কারণে তাদের ডাক্তারের কাছেও যেতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হয়। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত পাওয়ারফুল ব্যথা কমানোর ওষুধ তথা পেইন কিলার সেবনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভার এবং কিডনি। তাই এই ব্যথা উপশমের উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
 
 
কোমর ও পিঠের ব্যথা ইদানিং খুবই প্রচলিত একটি সমস্যা। বর্তমানে এই ব্যথার হার এবং রোগী দুটোই বেড়েছে। আমাদের পরিবর্তিত জীবনধারা এবং প্রযুক্তির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এই ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। সব বয়সী ছেলেমেয়েরাই আজকাল এই সমস্যায় ভুগছে। সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইলে গেম খেলা, ভিডিও দেখার কারণে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। উপরন্তু মানসিক অবসাদে ভোগে মানুষ। ঘাড়ে, বগলে, পিঠে, কোমরে, মাথায় প্রচুর ব্যথা হয়। কখনো কখনো এমন ব্যথা হয় যে, রোগী নড়াচড়া পর্যন্ত করতে পারে না।
এছাড়া মাদক জাতীয় দ্রব্য সেবনেও শরীরের পেছনের দিকে ব্যথা হতে পারে। রোগী পিঠের আর কোমরের ব্যথায় অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। ওষুধ খাওয়ার পরে ব্যথা কমে কিছুক্ষণ কিন্তু আবার ফিরে আসে। বারবার একই ঘটনা ঘটছে। কারো কারো আবার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যথা থাকে। অনেকেরই আবার সারাক্ষণই অল্প অল্প ব্যথা থাকে। এই ব্যথা সহ্য করেই তাদের দৈনন্দিন কাজ সামলাতে হয়। ব্যথা কমানোর আগে ব্যথা কেন হয় সেই কারণগুলো জানতে হবে এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মেয়েদের মেনোপজ হবার পরে এই ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে উদ্বেগজনক হলো, কিশোর, কিশোরী এমনকি অল্প বয়সী শিশুরাও আজকাল ব্যাকপেইনে ভুগছে। চিকিৎসকেরা এই বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেছেন।
 
আজকে আলোচনা করবো এই কোমর আর পিঠের ব্যথা কমানোর কিছু উপায় যা বেশ কার্যকরী। ঘরে থাকা উপকরণ দিয়েই এই ব্যথার উপশম ঘটাতে পারবেন। এতে আপনি নিত্যদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন এবং কমবে আপনার পিঠ আর কোমরের ব্যথা। তবে একটি কথা বলতেই হয়। আমাদের জীবনযাপন, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস, কাজের ধরণ, টাইম টেবিল, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত কাজের চাপ এই ব্যাকপেইনের জন্য অনেকখানি দায়ী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন, শরীরচর্চা, সঠিক নিয়মে খাদ্য গ্রহণ এবং পরিমিত ঘুম এই ব্যথা উপশমে সম্পূর্ণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
প্রতিদিন হাঁটা বা ব্যয়াম করা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। তবে এই উপায় ওষুধের বিকল্প নয়। যারা ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ খাচ্ছেন তাদের ওষুধ সেবন বন্ধ করা চলবে না। তবে ওষুধের পাশাপাশি এই সব ঘরোয়া উপায় কাজে লাগাতে পারবেন। দেখবেন উপকার হবে।
 
 
শুরুতেই বলেছি ব্যথা উপশমের আগে কোমর আর পিঠে ব্যথা কেন হচ্ছে সেই সম্পর্কে জানতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো ওষুধ সেবন, ছোটবেলায় পড়ে ব্যথা পাওয়া, দূর্ঘটনা বা বড় ধরণের আঘাত পাওয়ার কারণেও ব্যাকপেইন হতে পারে। অনেক সময় কেন ব্যথা হচ্ছে সেটা বোঝা যায় না। তখন ডাক্তারেরা লাইফস্টাইল চেন্ঞ্জের পরামর্শ দেন। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
 
আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে বয়স হলে বার্ধক্যজনিত কারণে পায়ে, পিঠে, কোমরে ব্যথা হওয়া খুব স্বাভাবিক। কারণ শরীর একটি যন্ত্র। চলতে চলতে তাতেও একসময় ফাটল ধরে। চির ধরে আর দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা ব্যথা কমানোর চেয়ে আরামের দিকে নজর দেন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে বলেন।
 

পিঠে ব্যাথার জন্য কোন ধরনের ডাক্তার দেখাতে পারি?

ব্যাকপেইনের আসল কারণ কি?
 
চাপযুক্ত জীবন, বার্ধক্য, দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বাঁকা হয়ে বসে কাজ করা এবং কাজের ফাঁকে বিরতি না দেয়া, হাঁটাচলা কম করা, ঘুমানোর সময় শরীরের পজিশন ঠিক না থাকা, শক্ত বিছানা এবং বালিশ ব্যবহারের কারণেও শরীরের পেছনে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে পন্ঞ্চাশের পরে এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ষাটের পরে এই সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারেরা একে স্বাভাবিক বলেই ধরে থাকেন।
 
শরীরে পেছনে ব্যথা হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বসে কাজ করা। যারা বিরতি না দিয়ে অনেকক্ষণ অফিসে, ব্যাংকে বা কর্পোরেট সেক্টরে বসে বসে চাকরি করেন এবং সেখানে চেয়ার- টেবিলে বসেই কাজ করতে হয় তাদের এই পিঠে কোমরে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ বেশি। তাই শরীরের প্রতি যত্ন নিতে সচেতন হোন। কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে হাঁটাহাঁটি করুন। জগিং করতে পারেন সকালে। কাছাকাছি কোথাও গেলে গাড়ি না নিয়ে হেঁটেই যান। এতে শরীর ভালো থাকবে।
 
এবার দেখে নেয়া যাক কিছু সহজ উপায় যার কারণে এই পিঠ আর কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
 

১. হট এবং কোল্ড ব্যাগ

 


হট অথবা কোল্ড ব্যাগ ব্যথার স্থানে রেখে সেঁকা দিলে এই ব্যথা থেকে কিছুটা হলেও আরাম পাওয়া যায়। যার জন্য যেটা কাজ করে সে সেটা ব্যবহার করবেন। আর হট ব্যাগ ব্যবহার করলে পরিমাণমতো গরম পানি এবং কোল্ড ব্যাগে বরফ দিয়ে সেঁকা দিন। নিয়মিত ব্যবহারে আরাম পাবেন আর ব্যথাও কমবে।
 

২. ইউক্যালিপটাস তেল 

 
গোসলের সময় বালতিতে কুসুম গরম পানি নিয়ে তাতে ইউক্যালিপটাস তেল মেশান। এটি পেছনের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি স্নায়ু শান্ত করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে। চাইলে এই তেল ম্যাসাজও করতে পারেন। আরাম পাবেন অনেকটা আর ব্যথাও কমে যাবে।
 

৩. শরীরচর্চা

 
প্রতিদিন ব্যয়াম করলে যেমন অতিরিক্ত মেদ ঝরে যায় তেমনি হাত ও পায়ের স্ট্রেন্থ বাড়ে। শরীরের ব্যথা কমে যায়। সহ্যক্ষমতা বাড়ে। বডি ফ্লেক্সিবল এবং চামড়া টানটান হয়। তাই জিমে গিয়ে বা বাড়িতে বসেও শরীরচর্চা করতে পারেন।
আজকাল ইউটিউবে ব্যাক, শোল্ডার, লেগ সব ধরণৃর ওয়ার্কআউটের ভিডিও পাওয়া যায়। সেগুলো দেখে বাড়িতেই শরীরচর্চা করতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় ইনস্টাকটর বা ফিটনেস ট্রেইনার অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শরীরচর্চা করুন।
 

৪. যোগব্যায়াম

 
শরীরচর্চার পাশাপাশি ইয়োগা তথা যোগব্যয়াম করতে পারেন। প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। যোগব্যয়ামের কিছু আসনই আছে যা ব্যাকপেইন কমাতে সাহায্য করে। ক্যাট পোজ, বিগ টো পোজ (Big Toe Pose), ডলফিন পোজ (Dolphin Pose), লস্ট(Lost) এবং আপওয়ার্ড ফেসিং বো পোজ (Upward Facing Bow Pose), চক্রাসন, ধনুক আসন পিঠ বা কোমরের যন্ত্রণা নিরাময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী।
 

৫. স্ট্রেচিং

 
স্ট্রেচিং হলো যারা অসহ্য পিঠ এবং কোমরের যন্ত্রণায় ভুগছেন তাদের ত্রাণকর্তা। কেন জানেন? কারণ স্ট্রেচিং এসবের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক এবং একটি অত্যন্ত কার্যকরী প্রতিকার। এটি শরীরের সমস্ত পেশীগুলিকে প্রসারিত করে। শরীরে সহন ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কোমর এবং পিঠ ছাড়াও ঘাড়, মাথার পেছনে ব্যথা, পায়ের পেছনের ব্যথা কমাতেও এই স্ট্রেচিং বেশ ভালো ব্যয়াম।
 

৫. ম্যাসাজ

 
প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে দুইবেলা পিঠ এবং কোমরে সর্ষে তেলের মালিশ, অলিভ অয়েলের মালিশ বা যে কোনো এসেনশিয়াল তেল মালিশ করলে আরাম পাবেন। এরপর কুসুম গরম পানিতে গা মুছে নিন অথবা গোসল করতে পারেন। এই ম্যাসাজের কারণে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং আপনি ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।
 

৬. অ্যালোভেরা

 
এই অ্যালোভেরা গাছের পাতা তার ঔষধি গুণের জন্য সুপরিচিত। অ্যালোভেরা জেল নিয়মিত পিঠে এবং কোমরে মালিশ করতে পারেন। এছাড়া এই জেল সহযোগে ঘরোয়া প্যাক তৈরি করেও লাগাতে পারেন ব্যথার স্থানে। এতে উপকৃত হবেন।
 

৭. রসুন

 
কিছুটা রসুন বেটে পিঠে এবং কোমরে মালিশ করতে পারেন। এছাড়া রসুন তেলের মালিশও খুব উপকারী। চুলায় সরিষার তেল গরম করেতাতে কয়েক টুকরা রসুন দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা করে মালিশ করুন। উপকার পাবেন।
 

৮. মলম

 
বাজারে বিভিন্ন ধরণের মলম পাওয়া যায়। যেমন- মুভ, ভলিনাক ইত্যাদি। এসব মলম দিনে দুইবার মালিশ করলেও কমবে পিঠ এবং কোমরের ব্যথা। এছাড়া পেইন কিলার খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
 

৯. লবণ

 
লবণ কিন্তু প্রাচীনকাল থেকেই ব্যথা নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একটি কাপড়ে অনেকগুলো লবণ নিয়ে পুটলি বানিয়ে স্ত্রী দিয়ে গরম করে সেঁকা দিতে পারেন। এই লবণ শিথিল হয়ে যাওয়া পেশি সচল করতে সাহায্য করে এবং রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে। ফলে ব্যথা কমে যায়।
 

১০. গরম পানি

 
শুধু গরম পানি নিয়ে তাতে শুকনো কাপড় ভিজিয়ে সেঁকলেও আরাম পাবেন। সংকুচিত ধমনী এবং শিরা ধীরে ধীরে কাজ করবে এবং ব্যথা কমে যাবে পিঠের এবং কোমরের।
 
খারাপ অভ্যাস ত্যাগ
শুধু চিকিৎসা নিলেই যে ব্যথা কমে যাবে তা নয়। খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে।
১. ধূমপান ত্যাগ করুন। ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ধীরে ধীরে ত্যাগ করুন। কারণ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি শুধু আপনার ফুসফুস এবং কিডনীর ক্ষতি করছে না। আপনার লিভারে সমস্যা এমনকি ব্যাকসাইডে ব্যথার জন্যেও ধূমপান দায়ী। অনেকক্ষণ ধূমপান না করলে শরীর ম্যাজম্যাজ করতে থাকে। আপনি চাপে থাকেন। আর সেখান থেকেই শুরু হয় শরীরের পেছন দিকে ব্যথা।
২. বেশি রাত জাগা যাবে না। শরীর সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। দেহকে বিশ্রাম দিতে হবে। এজন্য রাত জাগার অভ্যাস পরিহার করুন। দেখবেন কোমর এবং পিঠের ব্যথা কমে গেছে। আপনি চাপমুক্ত আছেন আর মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারছেন।
৩. অতিরিক্ত চা- কফি পান করবেন না। এটা ঠিক যে, চা অথবা কফি খেলে শরীরটা ফুরফুরে লাগে। নতুন উদ্যমে কাজ করা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত চা অথবা কফি পান করবেন না। এতে নিদ্রাহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। ঠিকমতো ঘুম না হলে আপনি ক্লান্ত হয়ে যাবেন এবং শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হতে পারে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনোই চা অথবা কফি পান করবেন না।
৪. স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। দিনের কিছুটা সময় মোবাইল অথবা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। বাইরে হাঁটতে যেতে পারেন। পরিবারের সাথে সময় কাটান। আর কখনোই ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল দেখবেন না। এতে আমাদের পেশি এবং মষ্তিস্ক অস্থির হয়ে যায়। আর ঠিকমতো ঘুম হয় না। ফলে পিঠে ব্যথা, মাথায় ব্যথা, কোমরে সমস্যা হতে পারে।
৫. মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। বেশি পরিশ্রম করতে গেলে আপনার শরীরও একসময় ধকল সইতে পারবে না। তাই কাজের ফাঁকে বিশ্রাম নিন। বেশি বেশি পানি খান। পরিমানমতো খাওয়া- দাওয়া করুন।
 
জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন
 
আমাদের যে অভ্যস্ততার জীবন আছে সেখানে কিছু পরিবর্তন আনলে কোমর আর পিঠের ব্যথা থেকে অনেক সময় নিস্তার পাওয়া যায়। কারণ আমাদের অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। শরীরের ঠিকমতো যত্ন না নেয়া, ব্যয়াম করা এবং হাঁটাচলায় অনীহা, সময়মতো খাবার না খাওয়া, শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেয়া এসব অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যয়াম করতে হবে নিয়মিত।
 
সকালে হাঁটতে যেতে পারেন। প্রযুক্তির উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। প্রতিদিন সময়মতো খাবার খেতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। কোনো বেলায় খাবার স্কিপ করা যাবে না। কোনোরকম ওষুধ খেতে হলে সেটার কোর্স পুরো সম্পন্ন করতে হবে। নতুবা সাইড এফেক্ট হিসেবে পিঠে- কোমরে, গায়ে, মাথায় ব্যথা হতে পারে।
 
ডাক্তারের পরামর্শ নিন
 
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ব্যথা কমানোর ওষুধ সেবন করা যাবে না। যদি ছোটবেলায় পড়ে ব্যথা পাবার কারণে বা বয়সের কারণে ব্যথা অনুভব করেন সেইক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অনেক সময় এসব ক্ষেত্রে অপারেশন করতে হতে পারে।
 
আবার সিজার, হার্টে রিং পরানো বা বড় কোনো অপারেশনের পরেও নড়াচড়ায় কষ্ট হয়। পিঠে- কোমরে ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো রকম পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
 
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন:
১.ব্যয়াম করা শুরু করলেও অতিরিক্ত ব্যয়াম করবেন না। মাঝে মাঝে অফ ডে দিবেন।
২. ডাক্তার কোনো ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিলে সেই কোর্স অবশ্যই সম্পন্ন করবেন। এমন নয় যে, ব্যথা কমে গেছে। এখন আর খাবো না ওষুধ। এমনটা করা যাবে না।
৩. শুধুমাত্র লোকের কথা শুনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রকার ওষুধ সেবন করবেন না।
৪. ওষুধের টাইম টেবিল ঠিক রাখবেন।
৫. একদিনেই ব্যথা কমে যাবে এমনটা ভাববেন না।
 
আশা করি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের কিছুটা হলেও উপকার করতে পেরেছি। পিঠ এবং ব্যথা কমানোর অনেক উপায় জেনে গেছেন। এবারে সেগুলো কাজে লাগাতে পারবেন। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
 
@বিডি বাংলার নিউজ