ডিজে নেহার গ্রাহক ধনী ব্যবসায়ীরা, নম্বর রাখতেন ‘সংকেতে’

ডিজে নেহার গ্রাহক ধনী ব্যবসায়ীরা, নম্বর রাখতেন ‘সংকেতে’

মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তার বান্ধবী ফারজানা জামান নেহাবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী পুলিশের কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) রিমান্ডের তৃতীয় দিনে জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ । 
দেশের মধ্যে অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর ফোন নম্বর পাওয়া গেছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন নেহা। 

ওই সব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে মদ ও তরুণী সরবরাহ করতেন নেহা একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় । নিজেও তাদের সঙ্গ দিতেন মাঝে মধ্যে, বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।

ওই প্রতিবেদনে তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ডিজে নেহা তার মোবাইলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মোবাইল নম্বর বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ‘ক্লায়েন্ট-১’, ‘ক্লায়েন্ট-২’, ‘ক্লায়েন্ট-৩’ দিয়ে সংরক্ষণ করা আছে। আবার কারো নাম সংক্ষেপে প্রথম অক্ষর দিয়েও সংরক্ষণ করে রাখা আছে। 

জিজ্ঞাসাবাদে নেহা জানিয়েছেন, গত বছরের মার্চে চট্টগ্রামের এক গাড়ি ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ৬ মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নেহা। এরই মধ্যে ওই গাড়ি ব্যবসায়ীর এক ফেসবুক বন্ধুর সঙ্গেও পরিচয় হয় নেহার।

সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত নেহা ঢাকার ওই গাড়ি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়েছেন। নেহার ব্যবহৃত ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা দামের আইফোন টুয়েলভ প্রো ম্যাক্স ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই নেওয়া। নেহার এসব কাজে সহযোগিতা করতেন তারই চাচাতো ভাই শাফায়াত জামিল বিশাল।

২৮ জানুয়ারি উত্তরার ব্যাম্বু স্যুট রেস্টুরেন্টে ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের মদপান করাতে নেহা ও তার বন্ধু আরাফাত পার্টির আয়োজন করেন। মদপানের পর অসুস্থ হয়ে আরাফাতও একটি হাসপাতালে মারা যান। সেদিন নেহার ফোনেই তার চাচাতো ভাই শাফায়াত জামিল বিশাল এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে মদ কিনে ওই রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানায় ওই দৈনিকটি।

গত ৩০ জানুয়ারি রাতে বেসরকারি ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী রাজধানী উত্তরার ব্যাম্বু শট রেস্তোরাঁয় পার্টিতে অংশ নেয়। সেখানে সবাই মিলে মদপান করে। মদপান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ছাত্রী।

পরে, ওই ছাত্রীকে পার্টিতে অংশ নেওয়া তারই বন্ধু রায়হান মোহাম্মদপুরে তার বান্ধবী নুজহাতের বাসায় নিয়ে যায়। পরদিন সকালে ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যায় রায়হান ও তার বান্ধবী। সেখান থেকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার মারা যায় সে।

এ ঘটনায় ওইদিনই চারজনকে আসামি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন নিহত তরুণীর বাবা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়।

পরে, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে নিজেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিশাল। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এ ছাড়া ওই ছাত্রীর ছেলে বন্ধু আরিফ এবং তাদের বাসায় আশ্রয়দাতা তাফসিরও কারাগারে রয়েছেন। 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেছেন, নেহাকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। এসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে পুলিশ মামলার চার্জশিট জমা দেবে বলেও জানানো হয়।