পায়ের গন্ধ দূর করার সহজ উপায় | শীতকালে পায়ে মোজা পরলেই দুর্গন্ধ হয় ?

আপনি কি জুতা- মোজা পরতে ভয় পান? পায়ে দূর্গন্ধ হয় বলে? বেশ অস্বস্তিতে আছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। জেনে নেয়া যাক কি কি পদ্ধতিতে পায়ের দূর্গন্ধ দূর করা যেতে পারে।

পায়ের গন্ধ দূর করার সহজ উপায় | শীতকালে পায়ে মোজা পরলেই দুর্গন্ধ হয় ?
শীতকালে পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার উপায়

আপনি কি জুতা- মোজা পরতে ভয় পান? পায়ে দুর্গন্ধ হয় বলে? বেশ অস্বস্তিতে আছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। ঠান্ডার মৌসুমে শীত থেকে বাঁচতে এবং পা ফাটা রোধ করতে পায়ে মোজা পরেন অনেকেই। জুতা মোজা পরিধান করা ফরমাল পোশাকের অনুসঙ্গও বটে। অফিসে, মিটিংয়ে, স্কুল, কলেজে, সেমিনারে জুতা মোজা পরতে হয়। কিন্তু জুতা মোজা পরলে পা পুরোপুরি ঢেকে থাকে। পায়ে বাতাস আসা- যাওয়া করতে পারে না। তাই বদ্ধ অবস্থায় থাকতে থাকতে পায়ে দুর্গন্ধ হতে পারে।



অবশ্যই এটা একটা সমস্যা। এর কারণে আপনার আত্মবিশ্বাস এবং কমিউনিকেশন স্কিল দুটোতেই প্রভাব পড়তে পারে। হয়তো আপনি নিজেকে অন্যদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন। অন্যের যাতে অসুবিধা না হয় বা অভিযোগ না আসে। সেজন্য এসব ভেবে আপনি নিজেও অস্বস্তিতে রয়েছেন। এর থেকে মুক্তির উপায় কি? কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন জেনে নিন কিছু সহজ সমাধান। ঠিকঠাক যত্ন করলে অনেক সময় এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর কিছু ঘরোয়া উপায়ও এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। এতে আপনি আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাবেন আর পায়ের দুর্গন্ধের সমস্যাও কেটে যাবে। এরপর থেকে জুতা মোজা পরলেও আর অসুবিধা হবে না।



তাপমাত্রা কম থাকার কারণে শীতকালে পা ঠান্ডা হয়ে যায়। বাইরের তাপমাত্রা কম থাকার কারণে গরম পোশাকের সাথে পায়ে জুতা- মোজা পরতে হয়। এছাড়া যারা অফিসে চাকরি করেন,ব্যাংক বা কর্পোরেট অফিসে কর্মরত যারা আছেন, তাদের তো প্রায় সারাদিনই জুতা- মোজা পরে থাকতে হয়। এমন অবস্থায় পায়ে দুর্গন্ধ হলে বিব্রত বোধ করবেন এটা খুবই স্বাভাবিক। অন্যের নাক কোচকানো, নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে কার ভালো লাগে বলুন?



দীর্ঘক্ষণ মোজা পরে থাকলে অনেকেরই পায়ে বিশ্রী গন্ধ হয়। গরমকালে পা ঘামে। আর গরম বেশি থাকায় খোলামেলা জুতা পরা যায়। কিন্তু শীতকালে বাইরের আবহাওয়ার কারণে হলেও জুতা- মোজা পরতে হয়। তাই পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে না। এজন্য দুর্গন্ধ হয় বেশি। এছাড়া সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। তাই এর থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে হবে। জটিল রোগের আশংকাও থাকে অনেক সময়। তাছাড়া চলাচলে সারাদিনই পায়ের উপর দিয়ে ধকল যায়। এমন অবস্থায় পায়ের যত্নের প্রয়োজন রয়েছে।



সাধারণত ঘাম আর ব্যক্টেরিয়ার কারণে পায়ে দুর্গন্ধ হয়। এছাড়া কিছু কিছু ছত্রাক জাতীয় জীবানু এর জন্য দায়ী। এর থেকে পায়ে সংক্রমণ এবং চর্মরোগের সমস্যা হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরী। চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন। আর কি কি করতে পারেন তা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভুল করেও কোনো রকম ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সেবন করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। আর বাড়িতে বসেই কিছু পরিচর্যা করলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।



অবশ্যই প্রতিদিন গোসলের সময় পা পরিষ্কার করতে হবে। বাইরে থেকে এসেই পা ধুয়ে শুকাতে হবে। ভেজা পায়ে কখনোই জুতা- মোজা পরিধান করবে না। ব্যবহৃত মোজা ভালো করে বাতাসে শুকিয়ে নিন। সম্ভব হলে একদিন পর পর মোজা ধুয়ে করে শুকিয়ে তারপর পরুন। এতে মনও ভালো থাকবে আর কাজেও এনার্জি পাবেন। এছাড়া দূর্গন্ধের হারও কমে যাবে। এবার জেনে নেয়া যাক কি কি পদ্ধতিতে পায়ের দূর্গন্ধ দূর করা যেতে পারে:



আগে জেনে নেয়া যাক পায়ে দূর্গন্ধ কেন হয়। এর জন্য আসলে ঠিক কি কি কারণ রয়েছে।

১. ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে পায়ে দূর্গন্ধ হতে পারে।

২. মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে পা থেকে বাজে গন্ধ বের হয়।

৩. ঠিকমতো পায়ে বাতাস চলাচল না করতে পারলে বদ্ধ অবস্থায় পায়ে দূর্গন্ধ হয়।

৪. ঠিকভাবে পায়ের যত্ন না করলে এই ধরণের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।

৫. বংশের ধারা অনুযায়ী অনেকের পায়ে দূর্গন্ধ হয়। এর জন্য জিনগত বৈশিষ্ট্য দায়ী। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৬. পায়ের তৈলাক্ত পরিবেশ বা আদ্র ভাব পায়ের দূর্গন্ধ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

৭. পায়ের ঘাম ঠিকমতো না শুকালে পা থেকে বাজে গন্ধ আসতে পারে।

৮. ভেজা পায়ে জুতা- মোজা পরলে পায়ে দূর্গন্ধ হয়। পা ভালো করে মুছে শুকিয়ে জুতা পরতে হবে।

৯. একই মোজা বারবার পরিধান করলে পায়ে দূর্গন্ধ হয়। জুতা- মোজা অবশ্যই নিয়ম করে পরিষ্কার করতে হবে।

১০. অনেকের আবার ঋতুভেদে পায়ে দূর্গন্ধ হওয়া বা সংক্রমনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। সেই ক্ষেত্রে বছরের ঐ নির্দিষ্ট সময়টাতে সতর্ক থাকতে হবে। বেশি বেশি পায়ের যত্ন নিতে হবে।

এবার আসি কিভাবে বাড়িতে বসেই পায়ের দূর্গন্ধ দূর করা সম্ভব সেই বিষয়ে কথা বলবো। তবে কিছু কিছু বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া নিয়মিত যত্ন নিলে এবং পা পরিষ্কার করলে পায়ের দূর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই কেটে যায়।

আরো পড়ুন:

ত্বকের জন্য মুলতানি মাটির উপকারিতা | মুলতানি মাটি দিয়ে রূপচর্চা

স্তন বৃদ্ধির পরে প্রাথমিক ব্যায়াম মহিলাদের উপকার

সহজ উপায়ে পায়ের দূর্গন্ধ দূরীকরণের কিছু উপায়:





১) র-চা

রং চা যেমন স্বাস্থ্যকর পানীয় তেমনি রুপচর্চায়ও কাজে লাগে। এটি পায়ের দূর্গন্ধ দূর করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। শুনে অবাক হচ্ছেন? বাড়িতে থাকা চা পাতা বা চায়ের টি ব্যাগ পানিতে ভিজিয়ে পানি ফুটিয়ে নিন। এরপর ঠান্ডা পানি মিশিয়ে সহনীয় তাপমাত্রায় নিয়ে আসুন।

যা করবেন

এরপর কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে একটু শ্যাম্পু মিশিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া চায়ের গরম পানি পায়ে ঢেলেও নিতে পারেন। সকাল- বিকাল দুইবেলা করে এই পানি ব্যবহার করলে পায়ের দূর্গন্ধ দূর হবে। ত্বক ভালো থাকবে। পানি দেয়ার পর পা শুকিয়ে লোশন বা মশচেরাইজার লাগাতে ভুলবেন না।

কিভাবে কাজ করে

কালো চায়ের ট্যানিক অ্যাসিড দূর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবানু মেরে ফেলে। এছাড়া এটি ব্যবহারে পা কম ঘামে। শুষ্ক থাকে। যার কারণে দূর্গন্ধ কম হয়।



২. কফি

চা পাতার মতো কফিও পায়ের দূর্গন্ধ দূর করতে পারে। কফি, চিনি, লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিন। এরপর সেই প্যাক পায়ে মেখে দশ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে ফেলুন। লোশন লাগিয়ে নিন। দেখবেন পায়ের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে আর সেইসাথে দূর্গন্ধও হবে না।

কিভাবে কাজ করে:

কফিতে থাকে অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল উপাদান যা এই দূর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আপনার পায়ে একটি আস্তরণ তেরি করে পা ঘামা এবং সংক্রমিত হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়। কফির নিজস্ব মৃদু ঘ্রাণ থাকে যার কারণে আপনি ভালো অনুভব করবেন।

যা করবেন:

রোদ থেকে এসে পায়ে কফির এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া দিনে একবার ব্যবহারে পায়ের দূর্গন্ধ দূর হবে। যেদিন বেশি পরিশ্রম করবেন, হাঁটাচলা করবেন, সেদিন বাড়িতে ফিরে অবশ্যই এই প্যাকটি ব্যবহার করুন। আরাম পাবেন।





৩. ল্যাভেন্ডার অয়েল

ল্যভেন্ডার অয়েলের নিজস্ব সুবাস আছে। যদিও এই তেল বেশ দামী। বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণে ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করা হয়। পায়ের বিশ্রী গন্ধ দূর করতে এই তেল বেশ কাজে দেয়। ম্যাসাজ পার্লারগুলোতেও এই তেল ব্যবহৃত হয়।



কিভাবে কাজ করে:

ল্যাভেন্ডার তেল সুগন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি এই তেল পায়ের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া আর ভাইরাসগুলোকে মেরে ফেলে। পায়ে কয়েক ফোঁটা ল্যভেন্ডার অয়েল দিয়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। আরাম পাবেন। ক্লান্তি দূর হবে আর সেইসাথে দেখবেন পায়ের দুর্গন্ধের সমস্যা অনেকটাই কমবে।



যেভাবে ব্যবহার করবেন:

ল্যাভেন্ডার তেল গোসলের সময় পানিতে মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া রাতে পায়ে মেখেও ঘুমাতে পারেন। অবশ্যই সকালে উঠে পা ধুয়ে ফেলবেন।



৪. টি ট্রি অয়েল

পায়ের দূর্গন্ধ দূর করতে টি ট্রি অয়েলও খুব কার্যকরী। রুপচর্চায় ব্যবহারের জন্য এই তেলের বেশ কদর আছে। আগের মতোই পানিতে মিশিয়ে বা পায়ে মেখে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন এই টি ট্রি অয়েল।

কিভাবে কাজ করে

টি ট্রি অয়েলের ঘ্রাণ আর জীবানু ধ্বংসকারী গুণ পায়ের দূর্গন্ধ দূর করবে। আর পা থাকবে সংক্রমণমুক্ত। তবে এলার্জির সমস্যা থাকলে এই তেল ব্যবহার না করাই ভালো।



৫. এসেনশিয়াল অয়েল:

এই ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি অয়েল ছাড়াও বাজারে লেমন অয়েল, পিপারমেন্ট অয়েল পাওয়া যায়। এসব এসেনসিয়াল অয়েল পায়ের ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।



৬. আপেল সাইডার ভিনেগার

বালতিতে বা বড় গামলায় গরম পানি নিন। অবশ্যই সহনীয় তাপমাত্রার হতে হবে। তাতে বালতিতে বা গামলায় গরম জল নিয়ে তাতে আপেল সাইডার ভিনেগার মেশান। পানি বেশি গরম হলে কিছুটা ঠান্ডা পানি মিশিয়ে নিন। এরপর ১০- ১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে উঠিয়ে মুছে নিন তোয়ালে বা গামছার সাহায্যে। এরপর পায়ে লোশন বা পায়ের ক্রিম মেখে নিন।

কিভাবে কাজ করে:

ভিনেগারে থাকা এসিড পায়ে ঘামের কারণে সৃষ্ট বাজে গন্ধ দূর করবে। তবে বেশি ভিনেগার একবারে পানিতে মেশাবেন না। আর সরাসরি আপেল ভিনেগার পায়ে লাগাবেন না। এটি একদিন পর পর পায়ে ব্যবহার করবেন।



৭. কর্নস্টার্চ

জেনে অবাক হবেন। কিন্তু এটা সত্য যে, পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে আপনি কর্নস্টার্চও ব্যবহার করতে পারেন। কর্নস্টার্চ ঘাম শোষণ করে এবং আপনার পা পরিষ্কার রাখে। বেকিং সোডাও এক্ষেত্রে কার্যকরী। তবে একবারে বেশি পরিমাণে ব্যবহার করবেন না।



৮. ঘরোয়া প্যাক:

আপনার পায়ের ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ঘরে তৈরি বিভিন্ন প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। যেমন- বেসনের তৈরি ঘরোয়া প্যাক, হলুদের প্যাক, নারকেল তেল এক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। আপনার পায়ের দূর্গন্ধ তো দূর হবেই। সেই সাথে পা পরিষ্কার ও সতেজ থাকবে।

i. হলুদের প্যাক: হলুদ বাটা, মধু আর লেবু মিশিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে পায়ে লাগাতে পারেন। মধুর পরিবর্তে চিনিও ব্যবহার করতে পারেন।

ii. বেসনের প্যাক: বেসন, মধু আর গোলাপজল মিশিয়ে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।

iii. নিমপাতা: ত্বকের যত্নে নিমপাতার কোনো বিকল্প নেই। এটি পায়ের দূর্গন্ধ, চুলকানি, চর্মরোগ, সংক্রমণ সব দূরীকরণের ক্ষেত্রেই কার্যকরী প্রাকৃতিক একটি উপাদান।

iv. টমেটো এবং শসার প্যাক: টমেটো, শসা আর গ্লিসারিন মিশিয়ে পায়ে ব্যবহার করতে পারেন। পায়ের দূর্গন্ধ এবং কালো দাগ দুটোই দূর হবে।

v. কমলার রস: কমলার প্রাকৃতিক ফ্লেভার পায়ের দূর্গন্ধ কমাতে বেশ কার্যকর। তাই কমলার রস ব্যবহার করতে পারেন পায়ের দূর্গন্ধ কমানোর জন্য। কমলার খোসা বেটেও পায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

vi. সিজন্যাল ফল: প্রত্যেক সিজনে বাজারে যেসব ফল পাওয়া যায়, তা রস করে পায়ে লাগাতে পারেন। পায়ের চামড়া সুন্দর হবে আর দূর্গন্ধের সমস্যাও দূর হবে।



৯.গরম পানি ও কন্ডিশনার:

যে কন্ডিশনার আমরা চুলে ব্যবহার করি তা পায়ের দূর্গন্ধ দূরীকরণেও ভূমিকা রাখতে পারে। বালতিতে গরম পানি আর কন্ডিশনার মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। চাইলে একটু গোলাপ জল দিতে পারেন। ব্যবহার করে দেখুন। আপনার পায়ে দূর্গন্ধের সমস্যা দূর হবে।



যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন:

১. বাজার থেকে প্রোডাক্ট কেনার সময় মেয়াদ দেখে কিনবেন।

২. ভালো মানের প্রোডাক্ট বাছাই করবেন যাতে আপনার পায়ের ক্ষতি না হয়।

৩. প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে আপনার এলার্জি বা কোনো রকম রিঅ্যাকশন হবার সম্ভাবনা আছে কিনা অবশ্যই জেনে নিবেন।

৪. যদি এলার্জির সমস্যা থাকে তৎক্ষনাৎ ঐ পণ্য ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

৫. নিয়মিত পায়ের যত্ন নিতে হবে।

৬. অবশ্যই প্যাক বা রেমেডি ব্যবহারের পরে পায়ে মশ্চোরাইজিং করতে ভুলবেন না।

৭. চেষ্টা করবেন প্যাকগুলো প্রতিদিনেরটা প্রতিদিন তৈরি করতে। যদি সম্ভব না হয়, তিনদিনের বেশি একবারের তৈরি প্যাক ব্যবহার করবেন না।

৮. ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

পায়ের দূর্গন্ধের সমস্যা দূর করার জন্য স্কিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা কিছু ওষুধ দিয়ে থাকে। অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সেই ওষুধ সেবন করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবেন।

বাজারের রেডিমেড প্যাকের চেয়ে ঘরে তৈরি প্যাক এবং প্রাকৃতিক উনাদান বেশি কার্যকরী। কারণ সাইড এফেক্টের সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়া সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা। সহজেই কম সময়ে ঘরেই এই প্যাক তৈরি করতে পারবেন।



কিছু সাধারণ নিয়মাবলী:

১. পায়ের নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।

২. কাজ থেকে ফিরে গরম পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করতে হবে।

৩. গোসলের সময় সাবান পানিতে পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

৪. ভেজা পা নিয়ে কখনো ঘুমাবেন না।

৫. সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন পায়ে প্যাক ব্যবহার করুন। অবশ্যই ত্বক উপযোগী হতে হবে।

৬. পায়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।

৭. সম্ভব হলে মাসে একবার পার্লারে গিয়ে পায়ের পরিচর্যা করিয়ে আসতে পারেন।

৯. পা - কে বিশ্রাম দিন। বাইরে থেকে ফিরে অবশ্যই পায়ের ঘাম শুকাবেন।

১০. গোলাপজল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।





এই সাধারণ কিছু নিয়ম- কানুন মেনে চললে আপনার পায়ের ত্বক ভালো থাকবে। পা সুস্থ থাকবে। আর সেই সাথে পায়ের দূর্গন্ধের সমস্যা থেকেও নিস্তার পাবেন।

কেমন লাগলো এই উপায়গুলো জেনে? আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে। এরকম আরও তথ্যবহুল পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।



@বিডি বাংলার নিউজ