বাবা ছেড়ে গেছে ৬ মেয়ে হওয়ায় , দু’বোনের কলেজে ভর্তির টাকা নেই । বিডি বাংলার নিউজ

বাবা ছেড়ে গেছে ৬ মেয়ে হওয়ায় , দু’বোনের কলেজে ভর্তির টাকা নেই । বিডি বাংলার নিউজ
সংগৃহীত ছবিঃ হাবিবা ও সুমাইয়া

নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে হয়ে পড়েছে ভর্তি অনিশ্চিত হাবিবা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার তারা'ই দু'বোন । হাবিবা ও সুমাইয়া নানাবাড়িতে থাকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলীপুল এলাকায় । বাবা আব্দুল করিম মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে এখন তাদের তাড়িয়ে দিয়েছেন।এখন মা আসমা বেগম (১০ হাজার টাকা) বেতনে আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্টসে চাকরি করেন বলে জানিয়েছেন।

তারা অভাবের মধ্যেও মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হাবিবা জিপিএ- ৪.৫২ ও সুমাইয়া জিপিএ- ৪.৭১ পেয়ে এবার এসএসসি পাস করে। সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে তারা দুই বোন অনলাইনে আবেদন এর মাধ্যমে। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও ৫ হাজার টাকার জন্য তারা দুই বোন এখন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারছেন না ।


হাবিবা আক্তার জানায়, তারা ছয়'বোন। ৪ বছর আগে তাদের বড় বোনের বিয়ে হয়। বাকি তিন বোনের মধ্যে দুইজন পঞ্চম শ্রেণিতে ও অন্য জন শিশু শ্রেণিতে পড়েন। মা'তা আছমা বেগম খুব কষ্টের মধ্যে থেকেও সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মামারা গার্মন্টসে চাকরি করায় নিজেদের সংসারের খরচ বহন করতেই হিমশিম খেতে হয়। সেজন্য চাইলেও তারা সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন না ।

হাবিবা জানায়, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই বলে'ই বাবা মাকে অনেক নির্যাতন করতেন। মায়ের অনুমতি ছাড়া বাবা আরেকটি বিয়ে করার পর সংসারে কোনো প্রকার খরচ না দেয়ায়, আমি দেড় বছর এর মত গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারের খরচ বহন করি। এজন্য'ই আমি স্কুলে কোনো ক্লাসও করতে পারিনি। এরপর মা চাকরি পেলে আমি চাকরি ছেড়ে আবারও লেখাপড়ায় শুরু করি।

দু'বোন জানায়, আমরা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই। আমরা বোন'রা সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই আমরা মেয়ে'রাও পারি "মেয়ে'রা কখন'ও ফেলনা নই"

সুমাইয়া বলে, ‘আমরা বোন'রা লেখাপড়া করে ভালো চাকরি করতে চাই। সমাজে আমাদের মতো যারা টাকা-পয়সার অভাবে লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু হলেও করতে চাই। যদি ভর্তি হতে পারি কলেজে তাহলে পড়ালেখার পাশাপশি পার্টটাইম কাজ অথবা, আগামী জানুয়ারি থেকে টিউশনি করার চেষ্টা করব।’

মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, সুমাইয়া ও হাবিবার লেখাপড়ার আগ্রহ আছে অনেক। অভাবে থাকা সত্যেও তারা এসএসসিতে ভালো ফলাফ করেছে। আমার দীর্ঘ বিশ্বাস লেখাপড়ার জন্য তাদের কেউ সহায়তা করলে ওরা ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করবে।