বারবার পাত্র খুঁজেন এই প্রতারক নারী!

বারবার পাত্র খুঁজেন এই প্রতারক নারী!
সংগৃহীত ছবি

সুন্দর চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ । দেখে মনে হতেই পারে বিদেশে থাকেন তিনি। নিজের এই সুন্দর চেহারাকে পুঁজি করেই বার'বার পাত্র খুঁজ'তে থাকেন তিনি।

‘প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র চাই’। এই শিরোনাম দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন বারবার । বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করেন যে  'একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার সিটিজেন ডিভোর্সি সন্তানহীন, ৩৭ বছর বয়সী, পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক একজন পাত্র চাই।’

যোগাযোগের  ঠিকানা উল্লেখ করেন ,বারিধারা, গুলশানের মতো অভিজাত এলাকা। কখনও কানাডার সিটিজেন, কখনও বা আমেরিকা'ন তিনি।  বিজ্ঞাপন দিয়ে আকৃষ্ট করেন পাত্রদের নানা ধরনের পরিচয় দিয়ে। 
 
উন্নত দেশের বাসিন্দা হতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাত্ররা বিয়ে করতে । প্রলোভন দেখিয়ে ঝুলিয়ে রাখতেন সকল পাত্রকে। বিদেশে তার বিপুল অর্থ সম্পদ আরও , বড় ব্যবসাও রয়েছে তার। মূলত পাত্রীবেশী এই নারী হচ্ছেন একজন প্রতারক। তার আসল নাম সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস। তার রয়েছে একটি বিশাল চক্র। এই চক্রের মূল হোতা এই জান্নাত নারী নিজে'ই ।


গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তাকে বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, পত্রিকায় এ ধরনের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে'ই আকৃষ্ট হন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে পাত্রের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্র। এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে সাদিয়া জান্নাতের প্রতারণায় শিকার এক ব্যবসায়ী। নাজির হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছেন টিম সিআইডি।

পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখেই মোবাইল ফোনে মাধ্যমে জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাজির। বিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয় তখন'ই । খুব তারা তারি  বিয়ে করে নাজিরকে কানাডা নিয়ে যাবেন বলে জান্নান সাদিয়া জান্নাত। গত শনিবার (১২ই জুলাই) গুলশান-২ এর একটি রেষ্টেুরেন্টে দেখা করেন তারা দু'জন। প্রাথমিক অবস্থায় ১৫ লাখ টাকা ও নিজের পাসপোর্ট দেন জান্নাতের কাছে। পরে সাদিয়া জান্নাত জানায় কানাডায় ২শ’ কোটি টাকার ব্যবসা আছে তার । কিন্তু কানাডায় খুব  শীত বলে নাজির সেখানে থাকতে পারবেন না। সাদিয়া জান্নাত তাই টাকাগুলো বাংলাদেশে এনে নাজিরকে দিতে চান এবং দেশে ব্যবসা করে দু’জনে সুখে-শান্তিতে থাকবেন। এই প্রলোভন দিয়ে ভুক্তভোগী'দের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ট্যাক্স, ভ্যাট, ডিএইচএল বিল ইত্যাদির খরচের কথা বলে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তিনি। 


তারপর ফোন সহ সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ঠিকানাও পরিবর্তন করতে থাকেন । নাজিরের মতো এমন অনেকের কাছ থেকে এই চক্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার মত হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পারেন সিআইডি।


সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. জিসান জানান যে , জান্নাতের   নিজ হাতে লেখা অনেক হিসাবের খাতা জব্দ করেছেন সিআইডি টিম।  কোন পাত্রের কাছ থেকে কত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তার তথ্য পাওয়া গেছে। 

গ্রেপ্তারের সময় জান্নাতের কাছ থেকে পাওয়া গেছেন:১০টি মোবাইল ফোন,তিনটি মেমোরি কার্ড, সাতটি সীল, অসংখ্য ব্যবহৃত সীম ,হিসাবের খাতাসহ ও  তিন পাত্রের পাসপোর্ট,গত ২রা সেপ্টেম্বর এশিয়া ব্যাংক কে  ৪৮ লাখ টাকা জমা দেওয়ার স্লীপ উদ্ধার করা হয়। 
সুত্র: মানবজমিন।