ভিটামিন সি-র অভাবে কী কী রোগ হয় | কোন কোন খাবারে রয়েছে উপশমের হদিশ

যখন একটি সুস্থ শরীর বজায় রাখার কথা আসে, আমাদের দেহে পুষ্টি এবং খনিজগুলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,তার সাথে  বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন। 

ভিটামিন সি-র অভাবে কী কী রোগ হয় | কোন কোন খাবারে রয়েছে উপশমের হদিশ

এখানে ভিটামিন সি নিয়ে কথা বলা হয়েছে:

ভিটামিন সি (Vitamin C) আমাদের শরীরের সুস্থ ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির একটি উৎস। শরীরে কোলাজেনের (Collagen) সঠিক গঠনের জন্য এটা দায়ী। পাশাপাশি, ভিটামিন সি হাড়ের গঠন, রক্তনালীর স্বাস্থ্য এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন-সি একটি জৈব অম্ল। যা শাকসবজি, ফল প্রভৃতিতে পাওয়া যায়। মানুষ-সহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এ কারণেই ভিটামিন সি -র অভাবে অনেক রোগ হতে পারে।

রক্তাল্পতা (Anaemia): খাদ্য় তালিকায় ভিটামিন সি অন্তর্ভুক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য উপকারিতা ছাড়াও ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে, যা রক্তাল্পতার মতো রোগ প্রতিরোধের জন্য অত্যাবশ্যক। যা শরীরের লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়ার একটি ফল। এই রোগের উপসর্গগুলি হল ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি

ত্বকের রোগ (Skin Diseases): ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি কোলাজেন উৎপাদনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কোলাজেন একটি প্রোটিন, যা ত্বক, চুল, জয়েন্ট ইত্যাদির মতো সংযোজক টিস্যুতে প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন সি-র সেরা উৎস:

সাইট্রাস ফল (Citrus Fruits): ভিটামিন সি-র সব চেয়ে সাধারণ উৎস হল সাইট্রাস ফল। এটা বলা হয় যে প্রতি দিন একটি বাতাবি বা কমলা লেবু থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

পাকা পেঁপে (Ripe Papaya):  একটি ছোট পাকা পেঁপেতে থাকে ৯৫.৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। যদি হাড়ের ব্যথা কিংবা সর্দি-কাশির সমস্যায় ভোগেন, তখন প্রাতরাশে রাখতে পারেন বেশ খানিকটা পাকা পেঁপে।

পেয়ারা (Guava):  একটি বড় পেয়ারায় থাকে ৩৭৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। মধ্যযুগে নাবিকদের মধ্যে ভিটামিন সি-র ঘাটতি খুব গুরুতর সমস্যা ছিল। তার থেকে নানা ধরনের অসুস্থতা দেখা দিত। তখন চিকিৎসকরা নিয়মিত পেয়ারা খাইয়ে রোগ সারাতেন বলে শোনা যায়।

ব্রকোলি (Broccoli): এক কাপ ভর্তি ব্রকোলি কুচিতে থাকে ৮১.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তবে বেশি ঠাণ্ডা বা অতিরিক্ত গরমে রাখলে তার পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। অর্থাৎ, কাঁচা ব্রকোলিতে যতটা ভিটামিন থাকে, রান্নার পর ততটা থাকে না। তবুও অনেক খাদ্যের তুলনায় বেশি ভিটামিন সি শরীরে প্রবেশ করে নিয়মিত ব্রকোলি খেলে।

শাক (Shak): যে কোনও সবুজ শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। নিয়মিত শাক খেলে পাশাপাশি অনেকটা আয়রনও প্রবেশ করে শরীরে।

আলু: একটি বড় আলুতে থাকে ৭২.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

স্ট্রবেরি (Strawberry): এই ফলটি ভিটামিন ও খনিজের একটি ভালো উৎস। এখন আমাদের দেশেও অনেক চাষ করা হচ্ছে এই ফলটি। স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন সি থাকে, যা আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে কাজ করে।

টম্যাটো (Tomato): টম্যাটো পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। এ ছাড়াও টম্যাটোতে রয়েছে ভিটামিন সি