শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার আগে টিকা নিতে হবে, বিসিএস পরীক্ষা পেছাবে

শিক্ষার্থীদের হলে ওঠার আগে টিকা নিতে হবে, বিসিএস পরীক্ষা পেছাবে
সংগৃহীত ছবিঃ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

করোনা ভাইরাসের জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দেশের সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষেই সরাসরি ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ মে থেকে ঈদুল ফিতরের পর । এক সপ্তাহ আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু হলের ওঠার আগে আবাসিক শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা অবশ্যই নিতে হবেন।

আবাসিক শিক্ষার্থী, আবাসিক হলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকার ব্যবস্থা করা হবে হল খোলার আগেই । তবে স্বাস্থ্যগত (মেডিকেল কারণে) কারণে টিকা না নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে, তাহলে তাঁরা হলে থাকতে পারবেন।

কিন্তু, ২৪ মের আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শুধু অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চালাতে পারবে। বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে সকল সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিল রেখে। বয়স অতিক্রম হয়ে যাওয়া কোনো পরীক্ষার্থী করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ ফ্রি কোভিড-১৯ করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রক্রিয়া

আজ সোমবার উচ্চশিক্ষা নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ৪১ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারী পরীক্ষা ১৯ মার্চ হওয়ার কথা। এ ছাড়া ৪৩তম বিসিএসের আবেদন কার্যক্রম চলছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ বিসিএসের আবেদন করতে পারবেন। ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ৬ আগস্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


বর্তমানে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল খোলার দাবিতে আন্দোলন করছেন এবং কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলে উঠে গেছেন। এ অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী জানালেন, যাঁরা হলে আছেন, তাঁদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করেন, তবে এর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবে না। শিক্ষামন্ত্রী জানান, হল খোলার আগে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে ভর্তি পরীক্ষার তারিখও এই নতুন খোলার (বিশ্ববিদ্যালয় খোলার) তারিখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু বলেন, তড়িঘড়ি করে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের করোনার নিয়ন্ত্রণের যে সাফল্য, তা নষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে না। সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এসব সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে।

বর্তমানে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর আছে। এ ছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মোট ২২০টি আবাসিক হল আছে। এর মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার।

স্কুল–কলেজ খোলার বিষয়ে এক প্রশ্নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। তার আগে করোনা মোকাবিলাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিডি বাংলার নিউজ ডট কম