শিমুলের ছোট গল্পে শুভ্র নীলা (প্রথম পর্ব)

শিমুলের ছোট গল্পে শুভ্র নীলা (প্রথম পর্ব)
সংগৃহীত: শিমুলের ছোট গল্পে শুভ্র নীলা

প্রতিদিন এর মতো আজ ও শুভ্র বসে আছে ভার্সিটির সিঁড়ি কোঠায় । সামনেই ফুলের বাগান এক অপরূপ প্রকৃতি । প্রতিদিন নতুন নতুন ফুলের আগমন হয় বাগানে । এই অপরূপ প্রকৃতির প্রেমে পরতে কার না ভালো লাগে । ঠিক আজো বসে বসে প্রকৃতির সুন্দরয্যতা উপভোগ করতে ছিল । পাশে দিয়েই সবার চলাফেরা ।

হঠাৎ ভার্সিটি তে এক অপুরুপ সুন্দরি চস্মিস এর আগমন এক দেখা তেই ভাল লেগে যায় শুভ্রর । বুকের মাঝে এক ধরনের অজানা শিহরনে কাপুনি দিয়ে উঠে । প্রতিদিনই তো কত শত চস্মিস সামনে দিয়ে চলাফেরা করে কখনো তার মনের মাঝে তো এমন অনুভুতি হয় নি তবে আজ এমন কেন হচ্ছে । কেন যেন খুব ইচ্ছে হল চস্মিসের সাথে একটু কথা বলতে, খুব ইচ্ছে হল বলতে “"এই যে শুনছেন মিস চস্মিস”" কিন্তু  বলতে গিয়েও থমকে দাঁড়ালো । ঘুরে দাড়াতেই চোখের আরালে হারিয়ে গেল মিস চস্মিস , কিন্তু আর খুজে পেল না ।

মনে হচ্ছিলো যেন কোন এক স্বপ্নের ঘরে ছিল শুভ্র । সেদিন এর মতো বাসায় চলে আসলো শুভ্র । কেন যেন ভুলতেই পাড়ছে না সেই মুহূর্ত টাকে । ভুলতে গেলেও আরও বেশি তার চশমার আরালে লুকিয়ে থাকা মায়াবি চোখের মায়ায় হারিয়ে যাচ্ছে । রাত ১২ টা শুভ্র বাসার বেল্কুনি তে বসে বসে আকাশের চাঁদ দেখছে আর ভাবছে একটা মেয়ে এতটা সুন্দর কিভাবে হতে পারে । কিভাবেই বা এতটা মায়াবী হয় । ভাবতে ভাবতে চস্মিস এর ভাবনার ঘোরে হারিয়ে যাচ্ছে শুভ্র ।কেমন যেন এক দেখাতেই মনের মাঝে অনেক টা জায়গা করে নিয়েছে ।ভাবতে ভাবতে দু এক লাইন গান ও লিখে ফেললো

“””’’’‘’’ দুটি চোখ তার মায়ায় ভরা

হাসিটা এই হৃদয় কাড়ে ,

একটা মানুষ এতো সুন্দর

কেমন করে হতে পারে”””’’’’

ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত পেড়িয়ে সকালের সূর্য উঁকি দিল বুজতেই পারলো না। প্রতিদিন এর কাজের তালিকায় আরও একটি কাজ জায়গা করে নিলো ।

আজ শনিবার শুভ্র সবার আগে ভার্সিটির বকুল তলায় বসে আছে । অপেক্ষা করছে কখন চস্মিস এর দেখা পাবে । বিকেল ৫ টা চস্মিস এর দেখা মিললো , আজ শুভ্র পিছু নিয়েছে তাকে ফলো করে পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো চস্মিস তার ক্লাস রুমে চলে গেলো আজো কথা বলা হলো না । তবে এখন তার পরিচয় টা বের করতে পারবে ।

রুম নাম্বার টা নিয়ে সরাসরি ডিপার্টমেন্ট এ চলে গেলো শুভ্র। অবশেষে জানতে পারলো শুভ্রর ডিপার্টমেন্ট এই নতুন ভর্তি হয়েছে ১ ব্যাচ জুনিয়র । নাম টা এখন ও জানা হয় নি সেই মায়াবীর । বন্ধু গুলাও খুব সহজেই বুঝে গিয়েছে শুভ্রর এমন ভালো লাগার কথা । বন্ধুর মাধ্যমে চস্মিস এর নাম টাও জানা হয়ে গেলো “”নীলা”” সাথে ফেসবুক নাম টাও । অবশ্য তাকে ট্রিট দিতে হয়েছিলো ।

নীলা নাম টা যেমন সুন্দর ঠিক তেমন'ই দেখতেও অনেক মায়াবী যেন এক দূর আকাশ এর নীল পরী মাটিতে নেমে এসেছে । ভাবতে ভাবতে শুভ্র ফেসবুক টা লগইন করে নীলার আইডি টা খুজে বের করে নীলা কে “”Hi nilla”” লিখে মেসেজ করলো । মেসেজ করে অপেক্ষায় রইলো রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করবে কি'না । ভাবতে না ভাবতেই ২মিনিট পর মেসেজ রিপ্লে করলো নীলা । শুভ্রর মনে হচ্ছিলো যেন তখন সে সব থেকে বেশি সুখী ।

শুরু হলো কথোপকথন........

নীলা : কে আপনি ?  আমার নাম জানেন কি করে ? আমার আইডি কোথায় পেলেন ? [ শত প্রশ্ন রেখে গেলো ]

শুভ্র : আমি শুভ্র । নাম জানি কি করে সেটা না হয় পরেই বলব কোন এক সময় যদি কথা বলার সুযোগ দেন । তবে আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই ।

নীলা : আপনি আমার পরিচিত কেও নন তবে আপনার সাথে কেন কথা বলবো ?

শুভ্র : পরিচিত নই ঠিক আছে । তবে কি পরিচিত হতে পারিনা ?

নীলা : না পারেন না । কারন আপনার মতো ছেলেরা কেন একটা মেয়ের আইডি খুজে বের করে মেসেজ করে তা আমার ভালো করেই জানা আছে । আজ পরিচিত হতে চাইবেন কাল দেখা করতে চাইবেন পরে প্রপোস করে বসবেন। আমার বয় ফ্রেন্ড আছে । আপনি আমাকে আর মেসেজ করেবেন না ।

শুভ্র : বাহ আপনি তো বেশ ভালো ভবিষ্যৎ বানি করতে পারেন । তবে আপনার বয় ফ্রেন্ড আছে কিনা সেটা তো আমি জানতে চাই নি । যাই হোক আমি আপনার ভার্সিটি তেই পড়ি ।

নীলা : ও আচ্ছা । আমার ক্লাস মেট ?

শুভ্র : না তবে একই ডিপার্টমেন্ট এ ।।

নীলা : আপনি যেহেতু আমার ক্লাস মেট বা পরিচিত কেও না তো ভালো থাকবেন ।

মেসেজ টি করে সাথে সাথে নীলা শুভ্রকে ব্লক করে দিলো । শুভ্র অনেক কষ্ট পেলো ভাবলো মেয়েরা হয়তো এমন ই । রাত ৯ টা শুভ্র বাসা থেকে বের হয়ে নদীর পারে বসে পাশের দোকান থেকে এক কাপ চা নিলো চা এর কাপে চুমুক দিচ্ছে আর নীলার মেসজ গুল আবার ও পরছে । আর হাসছে নিজেকে বোকা ভেবে ।

চা টা শেষ করে শুভ্র বাসার দিকে যাচ্ছে কানে হেডফোন ফুল সাউন্ড এ গান প্লে হচ্ছে রাস্তার উপরে সোডিয়াম লাইট জ্বলছে দুই পাশে দিয়ে দু একটা গাড়ি যাচ্ছে কখন যেন এই প্রকৃতির মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেললো । আজকের রাত টাও শুভ্রর নির্ঘুম কেটে যাবে । এভাবেই কেটে গেলো কয়েক টা দিন । এর মধ্য শুভ্রর আর ইউনিভার্সিটিও যাওয়া হয় নি । নিজের মাঝে কেমন যেন এক ধরনের শূন্যতা অনুভব হচ্ছে । নীলা তো ব্লক করে দিয়েছে তার সাথে কথা বলার মতো কোন সোর্স ও নেই । ঠিক ৮ দিন পর সন্ধ্যায় নীলার মেসেজ নীলা আনব্লক করেছে শুরু হল আবারো কথোপকথন

নীলা : আমি সেদিন এর জন্য সরি আমার মন খারাপ ছিল সে জন্য খারাপ ব্যাবহার করেছি ।

শুভ্র : না আসলে আমার ঠিক হয় নি , আপনাকে মেসেজ করা ।

নীলা : আজ কি আপনি প্রতিশোধ নিচ্ছেন ?

শুভ্র : না প্রতিশোধ নিবো কেন । কেমন আছেন ? 

নীলা : আমি ভালো আছি । কি করছেন ?

শুভ্র : কিছু নয় তবে কিছু লিখছি আর ভাবছি

[ বেশ কিছুক্ষন চললো এমন কথোপকথন ]

নীলা : আপনি তো বেশ রোমান্টিক । আপনার লিখা কিছু কবিতা এবং গল্প পাঠাবেন ?

শুভ্র : ঠিক আছে পাঠিয়ে দিচ্ছি ।।

অততপর দুজনের মাঝে চলতে থাকে প্রতিনিয়ত কবিতা আদান প্রদান । নীলা ও শুভ্রর মতো বই পরতে পছন্দ করে ।নীলার মন খারাপ থাকলে শুভ্র মন ভালো করে দেয়ার চেষ্টা করে । দুজনের পছন্দ গুলো সব একই ঠিক তেমনি চাওয়া পাওয়া গুলোও । দুজনের মাঝে খুব অল্প সময় এ অপরিচিত নামক দুরুত্তটা দূর হয়ে যায় মনে হয় নীলা ও শুভ্রর মাঝে যেন জন্ম-জন্মান্তরের পরিচয় । সম্পর্ক টা আপনি থেকে তুমি তে রূপান্তরিত হয় খুব সহজেই ।

গল্প টা ভালো লাগলে ২য় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন আর বেশি বেশি করে শেয়ার করুন।।

ধন্যবাদ

লিখা : শিমুল আহাম্মেদ

নাগরপুর টাঙ্গাইল