স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উপর কিছু টিপস যা বিভ্রান্তি দূর করবে

স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উপর কিছু টিপস যা বিভ্রান্তি দূর করবে

বিশেষজ্ঞরা প্রায় এমন সব কথা বলেন যা শুনলে আমাদের মতের বিরোধ হয়। যে-কারনে আপনার নিজের স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখার জন্য কি করতে হবে সে বিষয়ে অনাগ্রহ সৃষ্টি করে। আপনি বুঝতেই পারেন না কি করা উচিত এবং কি উচিত নয়।

এত মতবিরোধ থাকা সত্বেও বেশ কয়েকটা সুস্থতার টিপস রয়েছে। যা কিনা গবেষণায় সমর্থন পেয়েছে বিশেষজ্ঞদের কাছে। আজ আলোচনা করবো সেই সকল পুষ্টির হেলদি টিপস যার বৈজ্ঞানিক প্রমান মিলেছে।

১. চিনিমুক্ত পানীয় পরিহার করুন

চিনি দিয়ে আমরা পানি খাইনা এজন্য একটু অবাক লাগতে পারে। আসলে চিনি মুক্ত পানীয় বলতে আমি যা বুঝিয়েছি সেটি হলো সোডা, ফলের রস, চা।

দুর্ভাগ্য হলেও সত্য আমরা অনেকেই জানিনা, মিষ্টি পানীয় হৃদরোগ এবং এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি বাড়ায়। তাছাড়া যাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নেই তাদের ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে।

বড়দের সাথে সাথে ছোটদের জন্যও চিনি এবং মিষ্টি পানীয় ক্ষতিকারক। যেহেতু তাদের প্রতিরোধক ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সেভাবে বিকাশ হয়না সেকারনে উচ্চরক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, ফ্যাট লিভার রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

এক্ষেত্রে আপনি মিষ্টি পানীয়র পরিবর্তে নিজেকে ফিট রাখতে, চিনি ছাড়া চা, পানি,কফি এসব খেতে পারেন।

 

২. বাদাম এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খান

এখানেও সামান্য বিষয় আছে লক্ষণীয় অনেকেই বাদাম এড়িয়ে চলেন কারন বাদামে আছে চর্বি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি বাদাম খেজুর ছাড়াও বিভিন্ন বীজ জাতীয় খাবারে রয়েছে খাদ্য পুষ্টি। এতে প্রোটিন, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন খনিজ রয়েছে।

বাদাম আপনার ওজন কমাতে সহায়তা করে। সেইসাথে হৃদরোগের ঝুঁকি ছাড়াও ডায়াবেটিস হওয়া থেকেও রক্ষা করে। পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাদ্য পরিহারে।

৩. প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চুলন।

আমরা অনেকেই প্রসেসড খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি আজকাল। আসুন জেনে নেই সেই বিষয়ে। আল্ট্রা প্রসেসড খাবার হলো এমন খাবার যেগুলো প্রক্রিয়াজাত হবার পরে সে খাবারের আসল পুষ্টিগুণ গুলো পরিবর্তিত হতে থাকে। এত ব্যবহার হয়ে থাকে চিনি, তেল, লবন, প্রিজারভেটিভ,কৃত্রিম রং বিভিন্ন উপাদান।

যেমন ধরুন কেক,ফাস্ট ফুড,ফ্রোজেন ফুড, টিনজাত খাবার, চিপস। এগুলো খেতে ভীষন সুস্বাদু এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সেকারনেই এই খাবারগুলো আমরা বেশি মাত্রায় খেয়ে থাকি। আমাদের মস্তিষ্ককে অতি মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে এসব খাবার। যা কিনা কারন হয়ে দাঁড়ায় অতিরিক্ত ক্যালোরির এবং ঘটে ওজন বৃদ্ধি। স্থূলতা বাড়ে আর সেই সাথে দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগ ও অন্যান্য রোগের কারণ হয়ে উঠে।

প্রক্রিয়াজাত খাবারে প্রদাহজনক চর্বি,চিনি, পরিশোধিত শস্যের উপাদান থাকে খুবই নিম্নমানের। এছাড়াও এই খাবারে থাকেনা পর্যাপ্ত ফাইবার, প্রোটিন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। বেশি ক্যালোরি যোগ হয় শরীরে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুকিতে পরার আশঙ্কা তো আছেই। একারনেই প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করাই শ্রেয়।

৪. চর্বিযুক্ত মাছ খান

মাছ উচ্চমানের প্রোটিন এবং চর্বির একটি বড় উৎস। গবেষণায় দেখা যায় যে যারা নিয়মিত মাছ খান তাদের হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া এবং প্রদাহজনিত অন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়।

৫. পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান

খাবারের সাথে সাথে ঘুমের দিকেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত কিংবা মাত্রার কম ঘুম স্বাস্থ্যহানি ঘটায়। ঘুম যদি পর্যাপ্ত না হয় তাহলে ইনসুলিন ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দিতে পারে। সেই সাথে আপনার ক্ষুদা মন্দার সাথে সাথে আপনার শারীরিক মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।

সীমিত ঘুম আপনার স্থূলতার কারন হতে পারে। যাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয়না তারা চর্বি, চিনি, ক্যালোরি বেশি আছে এমন সব খাবার পছন্দ করে। যা সম্ভাব্য অবাঞ্ছিত ওজন বৃদ্ধির কারন হয়ে উঠে।

৬. হাইড্রেটেড রাখুন নিজেকে

হাইড্রেশন স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা নিয়ে আমরা ভাবিই না কখনো। হাইড্রেটেড থাকার অর্থই হলো আপনার শরীর সবচেয়ে ভালো মত কাজ করছে এবং শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত আছে।

পানীয় হচ্ছে আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়। কারন পানিতে না আছে ক্যালোরি আর না আছে চিনি।

যদিও এর জন্য কারো কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে চলার প্রয়োজন নেই। তবে এটুকু মেনে চলুন যে প্রতিদিন আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাচ্ছেন যা আপনার পানির ঘাটতি পূরণ করে।

৭. অতিরিক্ত মাংস খাবেন না

মাংস আপনার খাদ্যের একটি পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর অংশ হতে পারে। এটি প্রোটিন এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ তবে মাত্রার অধিক হলেই ঘটবে বিপত্তি।

ভাজাপোড়া, তেলমসলা জনিত মাংস ক্ষতিকারক যৌগ গঠন করে বাড়িয়ে দিতে পারে ক্যান্সার ঝুঁকি। অতিরিক্ত রেড মিট বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৮. প্রচুর ফল ও শাকসবজি খান

শাকসবজি এবং ফলে রয়েছে পৃবায়োটিক ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং এন্টিঅক্সিডেন্টের সাথে সম্পৃক্ত। গবেষণায় দেখা যায় যে যারা প্রচুর ফলমূল খায় তারা অন্যদের তুলনায় হৃদরোগ,স্থূলতা এবং বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকির বাইরে থাকে।

৯. সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে ডায়েট করবেন না

অনেকেই ডায়েট এর নামে নিজের স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে ফেলেন। ডায়েট সাধারণত খুবই অকার্যকর একটি উপায় যেটি কখনো স্থায়ী সমাধান নয়। এবং সেটার কারন ও বলছি, সীমিত সীমাবদ্ধ খাবার আপনার মেটাবলিক রেট কমিয়ে দেয়। আপনি ক্যালোরি খরচ করছেন অন্যদিকে ওজন ও কমছে। একই সময়ে আপনার ক্ষুদা পানির পিপাসা এসব হরমোনে পরিবর্তন ঘটায়, আপনি অতিরিক্ত ক্যালোরি যুক্ত খাবার,চর্বি, চিনি খাওয়ার দিকে ঝুকে পরছেন। ডায়েট করার পরিবর্তে আপনি যদি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলেন তাহলে আপনার স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পরবে না কখনো।

সম্পুর্ন পুষ্টিকর খাবারে পরিপূর্ণ জীবনযাপন আপনাকে স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।

১০. মেডিটেশন বা ধ্যান করুন

মানসিক চাপ আপনার সব রকম নিয়মকে ব্যাহত করতে সক্ষম। এত এত নিয়ম মানলেন ডায়েট ফলো করলেন পুষ্টিকর খাবার খেলেন কিন্তু মানসিক চাপ সব ভারসাম্য নষ্ট করে দিলো কেমন হবে বলুনতো? রক্তে শর্করার মাত্রা, খাবারে অরুচি, ওজন, চর্বি ডিস্ট্রিবিউশন সব কিছুতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে মানসিক চাপ।

মেডিটেশন বা ধ্যান হলো এমন এক পন্থা যা আপনার স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি দুইয়ের জন্য কার্যকরী। গবেষণায় জানা যায় মেডিটেশন উন্নত মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য খুবই ফলপ্রসূ প্রভাব রাখে।

 

আসলে কিছু কথা না বললেই নয়। কিছু সহজ পদক্ষেপ আপনার খাবারের ধরন, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন আপনাকে নিয়ে যেতে পারে সুস্থতার দিকে। যদি আপনি  স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে আমি বলবো শুধুমাত্র খাবারের দিকেই নজর না দিয়ে ব্যায়াম ঘুম সামাজিক সম্পর্ক গুলো নিয়েও সময় দেয়ার কথা যা আপনার শারীরিক এবং মানসিক সমঞ্জস্যতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 বিডি বাংলার নিউজ