অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করার নিয়ম ২০২২ । ভোটার আইডি কার্ড চেক

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করার নিয়ম  ২০২২ । ভোটার আইডি কার্ড চেক
Bd NID online copy

বর্তমানে আমরা আমাদের বেশির ভাগ কাজগুলি অনলাইনের মাধ্যমে করে থাকি। তাই বলা যায় আমরা এখন অনেকটা অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এবং সেটা আমাদের কর্ম জীবনকে সহজ করে তুলেছে। অনলাইনে কাজ করার ফলে আমাদের অনেকটা সময় ও বেচে যায়। আমাদের অনেক এমন সরকারি কাজ থাকে যেগুলো আমাদের সেই স্থানে গিয়ে করতে হত। কিন্তু এখন তা অনলাইনের মাধ্যমেই করা সম্ভব। আমাদের সব সমস্যার সমাধান পেতে এখন আমরা অনলাইনমুখি।

যে কোন দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় প্রদান করার জন্য একজন ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড বা NID Card থাকা আবশ্যকীয়।  আপনার কাছে যদি সেই দেশে এনআইডি কার্ড না থাকে তাহলে আপনি সেই দেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য হবেন না।  

তাই একটি দেশের নাগরিক হিসাবে পরিচয় পাওয়ার জন্য এনআইডি কার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।
আপনি যে একজন বাংলাদেশের নাগরিক সেটা প্রমান করে আপনার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র৷ আপনার যদি আইডি কার্ড না থাকে তাহলে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে সকল তথ্য দিয়ে আইডি কার্ড তৈরি করে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনার আইডি কার্ডে যদি কোন ভুল থাকে সেটাও আপনি সংশোধন করতে পারবেন অনলাইনের মাধ্যমেই।  আবার যারা নতুন ভোটার তাদের অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে আইডি কার্ড পাওয়া সম্ভব। 
আমাদের আজকের আর্টিকেল হচ্ছে  " অনলাইন থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করার নিয়ম " এই সম্পর্কে আজকে সম্পূর্ণ আলোচনা করবো। তাই পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।

সূচিপত্রঃ  

১। নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে দেখব???

২। নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখার নিয়ম। 

৩। আমি নতুন ভোটার হতে চাই - নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার নিয়ম কি?  

৪। নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে পাবো? কতদিন পাবো?

৫। ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি। 

৬। ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন। 

৭। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য কি কি প্রয়োজন? 

৮। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য বা ছবি সংশোধনের নিয়ম  

৯।  মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র 

১০।  অনলাইন থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন - স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড

১১। ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নাম্বার হারিয়ে গেলে কি করবেন?  

১২। জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য জন্ম নিবন্ধন করেছে কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয় পত্র পায়নি। আমার করনীয় কি?  

১৩। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড তৈরির নিয়ম।

 

নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে দেখব ??? 

আপনি যখন নতুন আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করবেন তখন অনলাইনের মাধ্যমে আপনি নতুন আইডি কার্ডটি  দেখতে পারবেন। আপনি যখন নতুন ভোটারের জন্য আবেদন করেছিলেন আপনার যাবতীয় কাগজপত্র এবং এর সাথে একটি ছবি জমা দিয়েছিলেন  তখন আপনাকে একটি ফরমের স্লিপ দেওয়া হয়েছিল যেখানে ফরমের নাম্বার রয়েছে।  এই স্লিপটা কে বলা হয় ভোটার আইডি কার্ড ক্লিপ বা ভোটার আইডি কার্ড সার্চ করার ফরম স্লিপ বা ভোটার আইডি কার্ড সার্চ করার ফর্ম। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য এই ৮ সংখ্যার  ফরম নাম্বার প্রয়োজন হয়।
এই ৮ সংখ্যার নাম্বারটি দিয়ে আপনি নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন।

নতুন ভোটার আইডি কার্ড

 

নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখার নিয়ম  

আপনি অনলাইনের মাধ্যমে নিজে নিজে আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে নির্বাচন কমিশন এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ওয়েবসাইটে যাওয়ার পরে সেখানে আপনাকে একটি ফরম দেয়া হবে সেখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার, আপনার জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার তথ্য দেখুন এই বাটনে ক্লিকবে বোঝার জন্য নিচে একটি ছবি দিয়ে দেওয়া হলোঃ 

নিজের ভোটার আইডি কার্ড 

আমি নতুন ভোটার হতে চাই - নতুন আইডি কার্ড করার নিয়ম কি 

সবার প্রথমে জন নতুন ভোটারের যে স্টেপ ফলো করতে হবে সেটা হচ্ছে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা।

নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে যে কাগজ গুলো প্রয়োজন

  • জন্ম নিবন্ধন পত্র, 
  • এসএসসি পরীক্ষার সনদ,   
  • ঠিকানা 
  • ইউটিলিটি বিল  ফটোকপি, 
  • নাগরিক সনদ
  • বাবা-মার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এবং 
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে সেটা। 

বর্তমানে আপনি যে স্থানে থাকেন সেই বাসার দলিলের ফটোকপি জমা দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন এর সময় আপনি আপনার যাবতীয় ইনফর্মেশন নাম, জন্মতারিখ, পিতা, মাতার নাম এগুলো নির্ভুলভাবে সবগুলো ইনফরমেশন দিয়ে সাবমিট করবেন। সাবমিট করার আগে আপনি রিচেক করে নিবেন আপনার সকল তথ্য সঠিক আছে কিনা। 

অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করার পরে আপনার যাবতীয় ডকুমেন্ট যা যা প্রয়োজন সবগুলো নিয়ে চলে যান আপনার নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে। 
নিয়মগুলো যদি আপনি সঠিকভাবে পূরণ করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন এর মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন। 

 

নতুন ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে পাবো? কতদিনে পাবো?

আপনি ভোটার হওয়ার  পরে আপনাকে একটি সরকারি ফরম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মটা জমা দেওয়ার পরে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে আপনার ভোটার আইডি কার্ড টি কবে পাবেন।
 
সাধারণত নতুন ভোটার আইডি কার্ড পেতে (৩-৬) মাস সময় লাগে। তবে আপনার যদি জরুরি ভিত্তিতে ভোটার আইডি কার্ডের দরকার হয়, তাহলে আপনি জরুরী ভিত্তিতে আবেদন করে ভোটার আইডি কার্ড জলদি নিতে পারবেন।  তবে আপনার জরুরি কাজের জন্য আপনি ভোটার আইডি কার্ডের কপি দিয়েও আপনার কাজ করতে পারেন। 

ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি 

আপনি নতুন ভোটার হয়েছেন কিন্তু আপনার কাছে ভোটার আইডি কার্ড নেই। আপনার একটি ইমারজেন্সি কাজের জন্য আপনার ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন।  এক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? 
আপনার সেই কাজের জন্য আপনি ভোটার আইডি কার্ডের কপি ব্যবহার করতে পারবেন।  আপনি https://services.nidw.gov.bd/nid-pub ওয়েবসাইট থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের স্লিপ এর নাম্বারের মাধ্যমে আপনি সেটা কপি বের করতে পারবেন। 

ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধন

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে যদি কোন ভুল হয়ে থাকে তাহলে আপনি সেটা সংশোধন করতে পারবেন তা অনলাইনের মাধ্যমে৷ আগে এই কাজগুলো করা অনেক ঝামেলার থাকলেও এখন নির্বচন কমিশনের অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজগুলো করা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।
 

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য কি কি প্রয়োজন 

আবেদনের পর নেশনাল আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য যেসব  তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারেন তা নিচে দেওয়া হলঃ

  • ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন (নাম,জন্মতারিখ, পিতা বা মাতার নাম)
  • ঠিকানা পরিবর্তন (স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা)
  • ছবি পরিবর্তন (আপনার ছবি অস্পষ্ট হলে)
  • ভোটার আইডি কার্ড রিপ্রিন্ট ( অস্পষ্ট হলে) 
  • ভোটার এলাকা পরিবর্তন (যে স্থানে ভোটার হয়েছেন
  •  

ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য বা ছবি সংশোধনের নিয়ম

আইডি কার্ডের তথ্য বা ছবি সংশোধনের নিয়ম step-by-step নিচে তুলে ধরা হলোঃ
অনলাইনে NID সংশোধন করার আগে বাংলাদেশ  NID প্রোটাল ওয়েবসাইটে  রেজিস্ট্রেশন করতে হবে৷
ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশনের পর সকল তথ্য দিয়ে লগইন করুন।
লগইন করার পর ব্যক্তিগত ট্যাবে ক্লিক করুন।  ব্যক্তিগত ট্যাবে আপনার নাম ( আপনার জন্ম, তারিখ,থান পিতা মাতার নাম ইত্যাদি)  দেখতে পারবেন।
এবং এখান থেকে আপনি আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। 
এনআইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তনের জন্য  চার্জ দেখার জন্য এডিট বাটনে ক্লিক করুন।  এখানে আপনার প্রযোজ্য চার্জ এ তথ্য দেখানো হবে। 
এখান থেকে "বহাল" বাটনে ক্লিক করলে আপনাকে এডিট প্রফাইল পেজ এ নিয়ে যাওয়া হবে। বুঝার জন্য নিজের ছবি দিয়ে দেওয়া হল। 

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র 

আমাদের অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে সেটা হচ্ছে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য বের করা যায় সেটা একদমই ভুল। মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য শুধু নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীবৃন্দ রাই জানতে পারবে।  তাই যারা নির্বাচন কমিশনের ভোটার আইডি কার্ড প্রাপ্ত কর্মচারী আছে শুধু তারাই মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্র সকল তথ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

 

অনলাইন থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন - স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড

আপনি কি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড এর জন্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে কি আপনি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোডের অপশন এ ক্লিক করুন সেখানে আপনি ভোটার আইডি কার্ডের পিডিএফ ফাইল এবং সফট কপি পেয়ে যাবেন।
PDF copy ডাউনলোড করে স্মার্ট কার্ড ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করে নিন। 
          

ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর হারিয়ে গেলে কি করবেন? 

কোন কারনে আপনার ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর হারিয়ে গেলে খুজে না পেলে চিন্তার কোন কারণ নেই। স্লিপ নাম্বার টি যদি হারিয়ে যায় তবে আপনার নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ জিডি করে রাখুন। 
এরপর সরকারের তরফ থেকে আপনাকে আপনার মোবাইলের মেসেজে একটি মেসেজ পাঠানো হবে। সেখানে আপনাকে সব তথ্য বলে দেওয়া হবে আর এভাবে আপনি আপনার হারানো ফরমের স্লিপ এর নাম্বার ফিরে পেতে পারবেন। 

 

জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য জন্ম নিবন্ধন করেছি কিন্তু এখনো জাতীয় পরিচয় পত্র পায়নি আমার করনীয় কি?

 
আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়ার জন্য আপনি যখন জাতীয় পরিচয় পত্র নিবেদন করেছিলেন তখন আপনাকে একটি স্লিপ নাম্বার দেওয়া হয়েছিল। আপনি যদি আপনার নিকটস্থ  নির্বাচন কমিশনার অফিসে যান সেখান থেকে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে পারবেন৷  এছাড়াও সেই স্লিপ নাম্বার দিয়ে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। কিভাবে ডাউনলোড করেছে এবং তার বিস্তারিত আমি নিচের ভিডিওতে দিয়ে দিয়েছি।

 

 

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করার নিয়ম?  

প্রথমে আপনাকে নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে Log in করতে হবে। এবার রেজিস্ট্রেশন ফর নিউ ভোটার আইডি কার্ড এ ক্লিক করুন।  এখন একটি ফর্ম আসবে সেটা কে আপনার পূরণ করতে হবে (নিজের ভাষা সিলেক্ট করুন) মনে রাখবেনআপনি ফর্মে যা লিখবেন আপনার ভোটার আইডি কার্ডের সেই লেখায় আসবে৷  

এবার আপনাকে কিছু ডকুমেন্টস আপলোড দিতে হবে যেমনঃ ছবির স্ক্যান কপি, বয়সের প্রমাণ পত্র, ঠিকানা। সবকিছু দিয়ে দেওয়া হলে ভালোমতোই চেক করে সাবমিট করে দিন৷ আপনার সকল তথ্য যদি সঠিক থাকে তাহলে আগামী ১ মাসের মধ্যে  আপনার ভোটার আইডি কার্ড আপনার বাড়িতে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পৌছে দেওয়া হবে।  

এখন খুব সহজেই ঘরে বসে ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়। এর জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশন অফিসের ওয়েবসাইট (www.service.nidw.gov.bd) প্রবেশ করতে হয়

আমাদের শেষ মন্তব্য 

আশা করছি উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনারা বুঝতে পেরেছেন কিভাবে অনলাইন থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করা যায়। এই আর্টিকেল নিয়ে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্স এর মাধ্যমে জানাবেন। আর ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে আবার আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন।